উদ্ভাবিত মুক্তচিন্তা পূর্ণতা পাক সত্যের ছোঁয়ায় - সত্যমনা আমাদের সকল আপডেট পেতে এখনি সাবস্ক্রাইব করুন

নতুন পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ধর্মহীন জাতি গঠনের মাস্টারপ্লান

বাঁচতে হলে জানতে হবে...

[লেখাটি জণ সচেতনতার জন্য ব্যবহার করা যাবে।]

যদি নিজে এবং নিজের প্রিয় মানুষগুলোকে বাঁচাতে চান তাহলে অবশ্যই এই লেখাটি পড়ুন।

আপনি কি জানেন! আপনার সন্তান, ভাই কিংবা আদরের ছোট বোন স্কুল, কলেজ, আলিয়া মাদ্রাসার পাঠ্যপুস্তকে কী পড়ছে? কী শিখছে? 
আপনার অজান্তেই সে জাহান্নামের দিকে পা বাড়াচ্ছে না তো? এমন কিছু শিখছে না তো! যা তার ঈমানকে নষ্ট করে দিবে। সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থা ইতিপূর্বে ইসলাম শিক্ষাকে একেবারে বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছে। ১০ বছর পড়াশোনা করার পরও একজন ছাত্রের 'ইসলাম শিক্ষা' সাব্জেক্টে বেসিক জ্ঞানটুকুও অর্জন হয় না।

এতেই খ্যান্ত নয় ইসলাম বিদ্বেষীরা, ইসলামকে সমূলে ধ্বংস করার জন্য তারা ২০২৩ সালের পাঠ্যপুস্তকে ব্যপক পরিবর্তন এনেছে। যাতে রয়েছে: ইসলাম ও সমাজ বিরোধী অপসংস্কৃতি , ইতিহাস বিকৃতি ও ইসলাম বিদ্বেষ। 
উপরোক্ত বিষয়গুলো পড়ার পর আপনার সন্তানের মনে ইসলাম বিদ্বেষ তৈরি হবে। ধীরে ধীরে সে সংশয়বাদী নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী হয়ে উঠবে। তার দুনিয়া ও পরকাল উভয়ই ধ্বংস হবে। 

আপনি কি চান আপনার সন্তানের এই করুন পরিণতি হোক, দুনিয়া ও আখেরাত উভয়ই ধ্বংস হোক? সুতরাং আপনার সন্তান, আপনার সমাজকে এই শিক্ষা নামের অপশিক্ষা থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব আপনার-ই। আজ যদি আমি, আপনি চুপ থাকি, তাহলে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম এই করুণ পরিণতির শিকার হবে। 

আমাদের করণীয়: ১/ সতর্ক থাকতে হবে। ২/ সতর্ক করতে হবে। ৩/ প্রতিবাদ করতে হবে। ৪/ সঠিক ইতিহাস জানতে হবে। ৫/ নিজ উদ্যোগে ইসলামের জ্ঞান (ফরজ ইলম) অর্জন করতে হবে। 

চলুন দেখি পাঠ্যপুস্তকে আমাদের সন্তানদেরকে কী কী শিখানো হচ্ছে : 


[১] যেভাবে ইসলামী কালচার হটিয়ে পশ্চিমা কালচার গিলানো হচ্ছে: 


২০২৩ সালে মাদ্রাসার ১ম শ্রেণীর ইংরেজি বইয়ের প্রচ্ছদে শিক্ষার্থীদের মাথা থেকে টুপি আর হিজাব উৎখাত করা হয়েছে। পা থেকে পাজামা-সালোয়ার সরিয়ে হাফ প্যান্ট পরানো হয়েছে। 
প্রচ্ছদ, বই: English for today. প্রথম শ্রেণী।
 

সালামের মাধ্যমে কথা শুরু করা ইসলামী কালচারের অন্যতম নিদর্শন। সেটা হটিয়ে (Good morning) 'গুড মর্নিং' পশ্চিমা কালচার ঢুকানো হয়েছে। অর্থাৎ মাদ্রাসার বইতে 'আসসালামু আলাইকুম' বাদ দিয়ে 'গুড মর্নিং' যুক্ত করা হয়েছে। শুধু তাই না, গোটা বইতে নজর দিলে বলা যেতে পারে একটা ইসলামী ব্যাকগ্রাউন্ডের বইকে পশ্চিমা ব্যাকগ্রাউন্ডে পরিণত করা হয়েছে। 
 বই: English for today. প্রথম শ্রেণী।


এই পরিবর্তন গুলো কেন করা হয়েছে? কেন ইসলামী কালচার উৎখাত করে পশ্চিমা কালচার গিলানো হবে? 
কোন যুক্তিতে মুসলমানরা ইসলামী সাংস্কৃতি বাদ দিয়ে পশ্চিমা সাংস্কৃতি চর্চা করতে যাবে? 

এই পরিকল্পিত পরিবর্তন তো কেবল ইসলাম বিদ্বেষীদের থেকেই আশা করা যায়। তবে কি তারা... 
তারা কি ইসলামকে মুছে ফেলতে চাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্মৃতি থেকে? 


[২] পর্দা নিয়ে কটুক্তি... 


নতুন বছরের ক্লাস সেভেনের 'ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুশীলন বই' এর ২২১ নাম্বার পৃষ্ঠা কি আপনারা পড়েছেন? না পড়লে একবার পড়ে দেখুন।

সেখানে একটা প্রপাগাণ্ডা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। নাস্তিক্যবাদী প্রপাগাণ্ডা। পর্দানশিন মা বোনদের লাঞ্ছিত  করার প্রপাগাণ্ডা। কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের মনে পর্দার প্রতি বিদ্বেষ ঢুকানোর প্রপাগাণ্ডা।  

অবাস্তব, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মন গড়া কাহিনী সাজিয়ে পর্দাশীল মা বোনদের কটুক্তি করা হয়েছে। 

ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুশীলন বই, পৃ: ১২১। সপ্তম শ্রেণী।



অবরোধবাসিনীর কাহিনি

১. এক বাড়িতে আগুন লেগেছিল। গৃহিণী বুদ্ধি করে তাড়াতাড়ি সব গয়না একটা বাক্সে ভরে ঘরের বাইরে বের হলেন। দরজায় এসে দেখলেন একদল পুরুষ আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে। তিনি তাদের সামনে বের না হয়ে আবার ঘরের ভেতরে গিয়ে খাটের নিচে বসলেন। সেই অবস্থায় পুড়ে মরলেন। তবু পুরুষের সামনে বের হলেন না।

২. এক ভদ্রমহিলা ট্রেন বদলের সময় বোরকায় জড়িয়ে ট্রেন আর প্লাটফরমের মাঝখানে পড়ে গেলেন। স্টেশনে সে সময় তার গৃহপরিচারিকা ছাড়া আর কোনো নারী ছিল না। স্টেশনের কুলিরা তাকে তোলার জন্য এগিয়ে এলো। কিন্তু গৃহপরিচারিকা বললেন, "খবর্দার! কেউ বিবি সাহেবার গায়ে হাত দিয়ো না। ” কিন্তু সে একা অনেক টানাটানি করেও কিছুতেই তাকে তুলতে পারল না। প্রায় আধাঘন্টা অপেক্ষা করার পর ট্রেন ছেড়ে দিল। ট্রেনের চাকার তলায় পিষে তার দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল।

৩. একজন ডাক্তার গিয়েছেন রোগী দেখতে। ভদ্রমহিলার নিউমোনিয়া হয়েছে। তিনি ছিলেন পর্দার আড়ালে। ডাক্তার বললেন, স্টেথিস্কোপ লাগিয়ে ফুসফুসের অবস্থা দেখতে হবে; আমি পিঠের দিক থেকে দেখে নেব। কিন্তু ডাক্তারকে বলা হলো, স্টেথিস্কোপের নল গৃহপরিচারিকার হাতে দিতে। তিনি যেখানে যেখানে বলবেন, পরিচারিকা সেখানে নল রাখবে। তিনি পিঠে রাখবে বলে স্টেথিস্কোপের নলকে পর্দার ওপারে পাঠালেন। অনেকক্ষণ পরেও কোনো শব্দ শুনতে না পেয়ে পর্দা একটু সরিয়ে দেখলেন, নলটা কোমরে রাখা হয়েছে। তিনি বিরক্ত হয়ে ফিরে এলেন।

৪. জমিদার পরিবারের বিশ-পঁচিশজন মোটা মোটা কাপড়ের বোরকা পরা নারী হজে যাবার পথে কলকাতা স্টেশনে এলেন। তাদের স্টেশনের ওয়েটিং রুমে বসালে লোকে দেখতে পাবে। তাই প্লাটফ্রমে উপুর করে বসিয়ে মস্ত ভারী শতরঞ্জি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হলো। তাদের সঙ্গে থাকা হাজি সাহেব একটু দূরে দাঁড়িয়ে পাহারা দিতে লাগলেন। তারা ওই অবস্থায় কয়েক ঘণ্টা থাকার পরে ট্রেন আসার সময় হলো। রেলের একজন কর্মচারী হাজি সাহেবকে তার আসবাবপত্র সরিয়ে নিতে বললেন। হাজি সাহেব বললেন, ওইসব আসবাব না, বাড়ির মেয়েরা। কর্মাচারীটি আবারও একটি 'বস্তায়' লাথি দিয়ে ওগুলো সরাতে বললেন। ভেতরে থাকা মেয়েরা লাথি খেয়েও টু শব্দ করেনি।

৫. একবার এক লেডিস কনফারেন্স উপলক্ষে রোকেয়া আলীগড় গিয়েছিলেন। সেখানে এক ভদ্রমহিলার বোরকার প্রশংসা করায় তিনি বোরকা সম্পর্কে নিজের জীবনের কিছু অভিজ্ঞতার গল্প বললেন। একবার এক বাঙালি ভদ্রলোকের বাড়িতে বিয়ের নিমন্ত্রণে গিয়েছিলেন। সেখানকার ছেলে-মেয়েরা তাকে বোরকাসহ দেখে ভয়ে চিৎকার করে পালিয়েছিল। তিনি একবার কলকাতায় এসে আরও কয়েকজন বোরকাপরা নারীর সঙ্গে খোলা মোটরগাড়িতে পথে বের হয়েছিলেন। কলকাতার পথের ছেলেরাও তাদের ভূত মনে করে ছুটে পালিয়েছিল।

ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান-অনুশীলন বই। সপ্তম শ্রেণী। (পৃ: ১২১)

একটু ভাবুন এই  কটুক্তিমূলক কাহিনিগুলো পড়ার পর ১২-১৩ বছরের ছেলেমেয়েদের মনে কী প্রভাব পড়বে? তাদের মধ্যে যারা পর্দা করে, বোরকা পড়ে - আল্লাহর আইনের প্রতি ভালোবাসার কারণে পড়ুক কিংবা ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে পড়ুক - তারা স্কুল কলেজে কতটা লাঞ্ছিত হবে, অপদস্ত হবে, একবার ভেবে দেখেছেন।
ভুত, পেত্নী, বস্তা বলে হাসিঠাট্টা করবে। অতঃপর সে মেয়েটি হয়তো পর্দা ছেড়ে দিবে নয়তো উগ্রবাদী দেশ ভারত কিংবা ফ্রান্সের মুসলিম মেয়েদের মতো পড়াশোনা বন্ধ করে দিবে। 

ইতিপূর্বে আমরা দেখেছি বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমনকি জাতীয় বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও মেয়েরা পর্দার কারণে চরম লাঞ্ছনার শিকার হয়ে আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমান শিক্ষা সিলেবাস যে এই লাঞ্ছনাকে আরও কতগুণে উসকে দিবে তা একমাত্র আল্লাহই জানে।


[৩] ডারউইনের মিথ্যা থিওরী।


ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুশীলন বই। পৃ: ১১৫। ষষ্ঠ শ্রেণী।

ডারউইনিজম। এটা নিয়ে আর কি বলবো! একটা অপ্রমাণিত নাস্তিকীয় বিশ্বাসকে যুগ যুগ ধরে পাঠ্যপুস্তকে পোষা হচ্ছে এই আকাঙ্ক্ষায় যে একদিন তা প্রমাণিত হবেই।
তাদের এই স্বপ্ন কেয়ামত পর্যন্ত স্বপ্নই থেকে যাবে। কেননা মিথ্যা কখনো প্রমাণিত হয় না। আমাদের কাছে অবাক লাগে একটা বিতর্কিত তত্ত্ব যা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মাঝেও প্রচুর মতানৈক্য রয়েছে। অনেক বিজ্ঞানী ও চিকিৎসক বিবর্তনবাদকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া, রোমানিয়া, সৌদি আরব সহ বিভিন্ন দেশ বিবর্তনবাদকে তাদের পাঠ্যপুস্তক থেকে ছুড়ে ফেলেছে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে (Florida, Illinois, Kentucky, Mississippi, Oklahoma) বিবর্তনবাদ অনেক আগেই পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। [১] অথচ আমাদের বাংলাদেশে ডারউইনিজমকে সমাধার করতে করতে স্কুলের বাচ্চাদের বইতেও ঢুকিয়ে দিয়েছে। তদুপরি এটাকে ঢালাওভাবে বাস্তব, সত্য বলে প্রচার করা হচ্ছে। কতবড় ডাহা মিথ্যাকথা! একটা অপমানিত বিতর্কিত তত্ত্বকে এভাবে প্রচার প্রসার করার পিছনে তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের মানুষকে ধর্মহীন করা নাস্তিক বানানো। যে কারণে বিজ্ঞান বইয়ের পর এখন ইতিহাসের বইতেও ডারউইনের এই মিথ্যা মতবাদ শিখানো হচ্ছে। (ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুশীলন বই। পৃ: ১১৫। ষষ্ঠ শ্রেণী।)

[১] Reference: https://www.physicsforums.com/threads/the-5-states-that-banned-evolution-in-classrooms.15820/



[৪] শিশু-কিশোরদের পাঠ্যপুস্তকে যৌনাঙ্গ বিকৃতির শিক্ষা: 


সবচেয়ে ভয়ংকর যে অপশিক্ষাটা পাঠ্যপুস্তকে যুক্ত হয়েছে তা হলো: ট্রান্সজেন্ডার। যৌনাঙ্গ বিকৃতির শিক্ষা। অর্থাৎ আপনার সন্তান এই বই পড়ে শিখবে যে, সে আসলে পুরুষও মহিলাও না হিজড়াও না । সে আকৃতিতে ছেলে কিংবা মেয়ে হলেও যখন খুশি তখন চাইলেই ছেলে থেকে মেয়ে কিংবা মেয়ে থেকে ছেলে হতে পারবে লিঙ্গ পরিবর্তনের মাধ্যমে। আপনি চাইলেও আপনার সন্তানকে বাঁধা দিতে পারবেন না। কারণ পাঠ্যপুস্তক এই অধিকার তাকে দিয়েছে। 


এই বই আপনার সন্তানকে আরও শিখাবে সমকামিতার শিক্ষা। অর্থাৎ সে পুরুষ হয়েও চাইলেই কোন পুরুষের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে পারবে বিয়ে করতে পারবে। অথবা মেয়ে হয়েও চাইলেই কোন মেয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে পারবে, বিয়ে করতে পারবে। আপনি অবাক হচ্ছেন! ভাবছেন, এও কি সম্ভব? নতুন পাঠ্যপুস্তক পড়ার পর আপনার সন্তানে এগুলোই শিখবে, এগুলোই করবে। যে সন্তানের জন্য আপনারা এত কিছু করছেন, তাদের জীবন ধ্বংসের মুখে ফেলে দিবে এই পাঠ্যপুস্তক। 

এ সম্পর্কে আসিফ আদনান ভাইয়ের লেখাটি পড়ুন-

.

যাদের সুখের জন্য, সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য আপনি নিজের জীবনকে বিসর্জন করেছেন তাদের জীবনকে বিষিয়ে দেবার আয়োজন করা হয়েছে সুপরিকল্পিতভাবে - তা কি আপনি জানেন?  সপ্তম শ্রেনীর বইতে ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং সহিষ্ণুতার নামে পশ্চিমা বিশ্ব থেকে আমদানী করা ভয়ঙ্কর এলজিবিটি এজেন্ডার (LGBT Agenda) বিষ প্রবেশ করানো হয়েছে। সহজ ভাষায় এলজিবিটি এজেন্ডার উদ্দেশ্য অধিকারের নামে অসুস্থতা এবং নানাধরণের যৌন বিকৃতির স্বাভাবিকীকরণ। 

.

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড NCTB  সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুশীলন বইয়ে ৫১- ৫৬ পৃষ্ঠায় ‘শরীফার গল্প’ শিরোনামের লেখায় ৫১ পৃষ্ঠায় মূল চরিত্র শরীফা বলছে, “আমার শরীরটা ছেলেদের মতো হলেও আমি মনে মনে একজন মেয়ে...


ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুশীলন বই। পৃ: ৫১। সপ্তম শ্রেণী।


৫২ পৃষ্ঠায় মূল চরিত্র শরীফাকে একজন বলছে, “আমরা নারী বা পুরুষ নই। আমরা হলাম ট্রান্সজেন্ডার”। 

ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুশীলন বই। পৃ: ৫২। সপ্তম শ্রেণী।


৫৬ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, যতক্ষণ না অন্যের কোনো ক্ষতি হচ্ছে ততক্ষণ যা খুশি তাই করা যায়। একজন মানুষ পুরুষের শরীর নিয়ে জন্মগ্রহণ করলেও সে যদি কোনো এক বয়সে নিজেকে নারী দাবী করে তাহলে সে নারী। আবার নারী দেহ নিয়ে জন্মগ্রহণ করা কেউ যদি নিজেকে পুরুষ দাবী করে তাহলে সে পুরুষ। এমন আচরণ সমাজের জন্য কোনো ক্ষতিকর নয় এমন দাবী করে যারা এটা মেনে নেবে না  তাদেরকে কটাক্ষ করা হয়েছে সেখানে।     

.

এই কথাগুলোর মাধ্যমে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ (transgender) নামক মানসিক অসুস্থতা ও বিকৃতিকে স্বাভাবিক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। 

পাশাপাশি বইতে হিজড়া এবং ট্রান্সজেন্ডারকে একই (সমার্থক) হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি করা হয়েছে হিজড়াদের প্রতি থাকা সহানুভূতিকে কাজে লাগিয়ে ট্রান্সজেন্ডারবাদকে বৈধতা দেয়ার উদ্দেশ্য। 

.

পাঠ্যপুস্তকে ট্রান্সজেন্ডার এবং হিজড়া দুটিকে একই বুঝানো হয়েছে।

ট্রান্সজেন্ডার এবং হিজড়া দুটি এক না। সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। অভিধান অনুযায়ী হিজড়া শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ ট্রান্সজেন্ডার নয়, বরং Hermaphrodite বা Intersex। পার্থক্যটা শুধু অভিধানের পাতায় না। বাস্তবেও এ দুয়ের মাঝে আছে বিশাল ফারাক।
.
আমাদের সমাজে হিজড়া বলতে বোঝানো হয় এমন কোন মানুষকে যিনি জন্মগতভাবেই শারীরিক ত্রুটিসম্পন্ন অথবা যাদের ক্রোমোসমগত কোন অস্বাভাবিকতা থাকে। অন্যদিকে ট্রান্সজেন্ডার হল এক ধরণের মানসিক সমস্যা। ট্রান্সজেন্ডার হলো এমন একদল মানুষ যাদের শারীরিক কোনো ত্রুটি নেই, কিন্তু ছেলে হয়েও নিজেদের মেয়ে বা মেয়ে হয়েও নিজেদের ছেলে দাবী করে।
.
সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী প্রতি ২০০০ জনে ১ জন মানুষ ইন্টারসেক্স বা হিজড়া হয়। জনসংখ্যার ০.০৫%। এছাড়া বাকি ৯৯.৯৫% মানুষ হয় নারী অথবা পুরুষ। ট্র্যান্সজেন্ডার এবং ইন্টারসেক্স, দুটো আলাদা জিনিস।
.
“একজন মানুষ পুরুষের শরীর নিয়ে জন্মগ্রহণ করলেও সে যদি কোনো এক বয়সে নিজেকে নারী দাবী করে তাহলে সে নারী। আবার নারী দেহ নিয়ে জন্মগ্রহণ করা কেউ যদি নিজেকে পুরুষ দাবী করে তাহলে সে পুরুষ” – এধরণের কথার কোন বাস্তবিক কিংবা বৈজ্ঞানিক ভিত্তিও নেই।
.
ট্রান্সজেন্ডার অসুস্থতায় ভোগা অনেকে সার্জারির মাধ্যমে যৌনাঙ্গ পরিবর্তন করে। অনেকে নানা ধরণের হরমোন ব্যবহার করে যেগুলো দীর্ঘমেয়াদে নানা ধরণের ক্ষতি করে। এগুলোর নানা ধরণের শারীরিক ও মানসিক জটিলতা তৈরি হয়। মিডিয়া আর শিক্ষাব্যবস্থার ব্রেইনওয়াশিং এর ফলে হয়ে বিগত ৭/৮ বছরে পশ্চিমা বিশ্বে এধরণের সার্জারি আর হরমোনের ব্যবহার হুট করে বহুগুনে বেড়েছে। সার্জারি করার পর ভুল বুঝতে পারে অধিকাংশই। কিন্তু ফেরার পথটা বড়ই কঠিন।
.
- “আমাকে ব্যবহার করা হয়েছে। আমি বোকা ছিলাম।  লিঙ্গ পরিবর্তন ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। আমি নিজেই আমার জীবনটা ধ্বংস করেছি”- ক্রিস বেক (৫৫), প্রথম প্রকাশ্য ট্রান্সজেন্ডার ইউএস নেভি সিল। [ডেইলি মেইল, ১২.১২. ২০২২

এমন উদাহরণ আরও রয়েছে। লেখাটি  বিস্তারিত পড়তে চাইলে আমাদের সত্যমনা ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন। 


[৫] ধর্ম যার যার উৎসব সবার।

'ধর্ম যার যার উৎসব সবার' এটি একটি শিরকী মতবাদ। যে ব্যক্তি বুঝেশুনে এই মতবাদে বিশ্বাসী হবে অথবা বুঝেশুনে অন্য ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ করবে সে শিরিকে লিপ্ত হবে।

বিষয়টা একেবারে খোলাখুলিভাবে বুঝুন- ইসলামে মূর্তি পূজা করার বিধান কী? সহজ উত্তর হল: মূর্তি পূজা করা শিরক। অথচ হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসব হলো: মূর্তি পূজা। ইসলামের দৃষ্টিতে যেটা শিরক।
এখন যদি কোন মুসলিম 'ধর্ম যার যার উৎসব সবার' এই মতবাদে বিশ্বাসী হয়ে হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসব মূর্তিপূজায় অংশগ্রহণ করে তাহলে কি সে শিরকি কাজে লিপ্ত হল না? কেননা ধর্মীয় উৎসব তো স্রেফ উৎসব নয়, মৌজ মাস্তি নয়। এটা একটা ধর্মের ধর্মীয় আইডেন্টিটি যার মধ্যে ওতপ্রোত ভাবে মিশে আছে যার যার ধর্মের ধর্মীয় বিশ্বাস। ধর্মীয় রীতিনীতি।

অনুরূপ ভাবে যদি কোন মুসলিম খ্রিস্টান কিংবা বৌদ্ধদের ধর্মীয় উৎসবে  অংশগ্রহণ করে তাহলে সেও শিরকী কাজে লিপ্ত হলো।

আপনার-আমার সন্তানকে এই শিরকী মতবাদ গেলানো হচ্ছে, ছলে-বলে-কৌশলে গল্পের মাধ্যমে শিখানো হচ্ছে। অসাম্প্রদায়িকতার বুলি আউড়িয়ে  'ধর্ম যার যার উৎসব সবার' এর বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। উক্ত মতবাদের অসারতা নিয়ে আমার লেখাটি পড়তে পারেন। shorturl.at/pquDN

ষষ্ঠ শ্রেণীর ইংরেজি বইতে (four friends) 'চার বন্ধু' নামের একটা গল্প আছে যার লেখক স্বয়ং জাফর ইকবাল। গল্পের সারসংক্ষেপটা এমন;


English class 6 . p: 140 

সাদিব, নন্দিনী, অ্যান্টনি, মাইকেল এরা চার বন্ধু চার ধর্মের। সাদিব তার ধর্মীয় উৎসব ঈদে খুব আনন্দ করলো। সাথে আনন্দ করলো তার হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান বন্ধুরাও। এরপর নন্দিনী তার মাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করল সাদিবের মত তাদের কি কোন ধর্মীয় উৎসব নেই? জবাবে মা বলল; আছে তো পূজা। পূজাই আমাদের ধর্মীয় উৎসব। নন্দিনী জিজ্ঞেস করল আমি কি আমার বন্ধুদের পূজায় নিমন্ত্রণ করতে পারব? তার মা বলল; অবশ্যই পারবে। এরপর নন্দিনীর তিন বন্ধু তার ধর্মীয় উৎসব পূজাতে অংশগ্রহণ করে খুব মজা করল। এভাবে চার বন্ধুই সকলের ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ করে বেশ আনন্দ পেল এবং বলতে লাগল আমরা পৃথিবীর অন্য সবার চেয়ে বেশি সুখী। কেননা আমরা সকলের ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ করতে পারি। যাদের আমাদের মত বন্ধু নেই তারা শুধু একবার মজা করে হয়তো কেউ শুধুমাত্র ঈদে মজা করে অথবা কেউ শুধুমাত্র পূজায় মজা করে। অথচ আমরা ঈদ, পূজা, বড়দিন, বুদ্ধ পূর্ণিমা সব উৎসবে মজা করি। সুতরাং আমরাই পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী।

গল্পের ছলে খুব কৌশলে আমাদের সন্তানদের মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া হলো তুমি মুসলিম বলে কি হয়েছে তুমি নিঃসংকোচে মূর্তিপূজা, বড়দিন ও বুদ্ধ পূর্ণিমায় অংশগ্রহণ করতে পারো, যদি না করো তাহলে তুমি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ হতে পারলে না। এই হলো আমাদের বর্তমান পাঠ্যপুস্তকের অবস্থা! পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে আজ মুসলিম সন্তানদেরকে মূর্তিপূজায় উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এখনও যদি আমরা লাগাম না ধরি তাহলে তা হাতছাড়া হয়ে যাবে।


[৬] ধর্মহীন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।


ষষ্ঠ শ্রেণীর ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইতে রুমানার আত্মপরিচয় নামে আমাদের সন্তানদেরকে এক আত্মপরিচয় শেখানো হচ্ছে। যার পরিচয়ের মধ্যে বিন্দুমাত্র ধর্মের ছোঁয়া লাগতে দেয়া হয়নি। সে যে মুসলিম' এটাও তার গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরিচয় নয় বরং অপশনাল অনুল্লেখযোগ্য পরিচয়।


ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুশীলন বই। পৃ: ৪। ষষ্ঠ শ্রেণী।

একজন মানুষের 'মুসলিম' পরিচয়ের চেয়েও 'সে ব্রাজিল ফুটবল দলের ভক্ত' পরিচয়টা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামিক কোন রিচুয়াল এই মুসলিম মেয়েটির পরিচয়ের অংশ হতে পারে না। কেননা এগুলো প্রচার যোগ্য না, প্রচার যোগ্য হল- সে সিনেমায় করুণ দৃশ্য দেখে কাঁদে, সে গান গায় ভালো, ব্রাজিল ফুটবল দলের ভক্ত, টিভিতে ডিসকভারি দেখে ইত্যাদি। 


১৮ টি পরিচয়ের মধ্যে একটাতেও ধর্মের কোনো ছাপ পাওয়া যায়নি, এটা কাকতালীয় না, পরিকল্পিত। ধর্মহীন সমাজ গড়তে হলে তো পাঠ্যপুস্তকে ধর্মকে রাখা যাবে না, ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে হবে। অনেকে বলতে পারেন, কে না কে রুমানা! তার পরিচয় নিয়ে আপনাদের এত মাথাব্যথা কেন? তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, রুমানাকে নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথা না, আমাদের মাথা ব্যথা আমাদের সন্তানদেরকে নিয়ে। কেননা এই আত্মপরিচয় আমাদের সন্তানদেরকেই গিলানো হবে। তারা এই পরিচয় দ্বারা প্রভাবিত হবে। প্রকৃতপক্ষে রুমানা তো  জাস্ট একটা নাম, যার কোন অস্তিত্ব নেই। কিন্তু নামের আড়ালে এই পরিচয় গুলো কোন দেশ থেকে আমদানি করা হলো!? যদি বাংলাদেশের হয়, তাহলে তো এতে ধর্ম থাকা আবশ্যক। কেননা বাংলাদেশের মানুষ প্রচন্ড রকম ধর্মপরায়ণ।


রুমানা নেলসন ম্যান্ডেলার ভক্ত। আমি বুঝলাম না! বাংলাদেশে ক্লাস সিক্সের কোন বাচ্চা পাওয়া যাবে কিনা যে নেলসন ম্যান্ডেলাকে চিনে? অথচ বাংলাদেশের প্রায় সকল বাচ্চা বিশ্বনবী মুহাম্মদ (স.) কে চিনে, অন্তর থেকে ভালবাসে। মানবতায় অবদান রাখার কারণে যদি কারো নাম পাঠ্যপুস্তকে দিতে হয় তাহলে সবার আগে মুহাম্মদ (স.) এর নাম দেওয়া উচিত। কেননা নেলসন ম্যান্ডেলার চেয়ে হাজার গুন বেশি অবদান রেখেছেন তিঁনি।


তদুপরি উক্ত অধ্যায়ে ছাত্রছাত্রীদের যে নাম ব্যবহার করা হয়েছে তাতেও লেখকদের ধর্মহীন মানসিকতা ফুটে উঠেছে। অন্বেষা, প্রকৃতি, অনুসন্ধান,  নিসর্গ, স্বাধীন। এই নামগুলো কি বাংলাদেশের মানুষের নাম? 

অনেকেই ভাবতে পারেন, তারা কি নিজেদের ইচ্ছে মতো নামও নির্বাচন করতে পারবে না? তাদেরকেই বলছি; না, পারবেনা। প্রত্যেকটি দেশের পাঠ্যপুস্তক রচিত হয় উক্ত দেশের বোধ ও বিশ্বাসকে ঘিরে। আপনি চাইলেই ভিন্ন সাংস্কৃতি এই দেশে আমদানি করতে পারবেন না। সে অধিকার আপনাকে দেয়া হয়নি। 


পরিশেষে রুমানার আত্মপরিচয় বিশ্লেষণে লেখকদেরও কয়েকটা পরিচয় ফুটে উঠেছে; ১/ নিজেরা ধর্মহীন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও ধর্মহীন বানানোর ইচ্ছা। ২/ বাংলাদেশের সাংস্কৃতির তুলনায় ভিন্ন সাংস্কৃতিতে বেশি আগ্রহী। 


[৭] পাঠ্যপুস্তকে ইতিহাস বিকৃতি ও ইসলাম বিদ্বেষ।

NCTB-এর ক্লাস সেভেনের 'ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ' বইটা পড়ে আমি দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে গেলাম যে, এটা কি বাংলাদেশের পাঠ্যপুস্তক, নাকি ভারতের?

বইয়ের প্রচ্ছদ থেকে শুরু করে শেষ পৃষ্ঠা অব্দি কোথাও আপত্তি থেকে খালি নেই। প্রাপ্তবয়স্ক বুদ্ধিমান যে কেউ বইটি পড়া মাত্রই বুঝতে পারবেন- ইসলাম কুপানোর পরিকল্পনা নিয়েই লেখকগন মাঠে নেমেছেন।
তবে আলোচ্য বিষয়ের সাথে বইয়ের নামটা “ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান” বেমানান হয়েছে।

বইয়ের মধ্যে লজ্জাজনক হারে ইতিহাসের বিকৃতি ঘটানো হয়েছে। যার ফলে মুসলিম শাসন ব্যবস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। অতি কৌশলে হিন্দু, বৌদ্ধ সভ্যতা ও ইতিহাসের প্রতি মুগ্ধতা সৃষ্টি করা হয়েছে। পাশাপাশি মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছে। একদিকে হিন্দু, বৌদ্ধ, বিধর্মীদের প্রশংসা অপরদিকে মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা, বেশ চমৎকার ভাবেই বাচ্চাদের মগজ ধোলাই করতে সাহায্য করবে।
যাইহোক, এখন চলুন দেখি উক্ত বইয়ের মধ্যে কী আছে, কী নেই:

Ridwan Haider Khandkar ভাইয়ের লেখাটি পড়ুন। খুব চমৎকার ভাবে তিনি গোটা বইটি সংক্ষেপে বিশ্লেষণ করেছেন।


প্রচ্ছদ: ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ।


১। প্রচ্ছদ দেখে প্রথম খটকাটি খেয়েছি। মৌর্য সাম্রাজ্যের আমলের বৌদ্ধ সমাজের পাটলিপুত্র মন্দিরের ছবি। এটা না আমাদের দেশের ইতিহাস সঠিকভাবে রিপ্রেজেন্ট করে না বর্তমান সমাজ। আমি বলছি না মসজিদের ছবি দিন বা মন্দিরের, দরকার নেই। বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপট রিপ্রেজেন্ট করে এমন কিছুও দেয়া যেতো। প্রচ্ছদের ময়ূর, পদ্ম ফুল, জবা ইত্যাদি আমাদের জাতীয় পাখি বা ফুলও নয়।
.
২। বইয়ে চারটি প্রধান অধ্যায়—
• প্রথমঃ নগর সভ্যতার উত্থান-পতন: দক্ষিণ এশিয়ায় মানুষের জীবন, অর্থনীতি ও পরিচয়ের রূপান্তর।
• দ্বিতীয়ঃ সাম্রাজ্যের বিস্তার, নগর-রাষ্ট্র আর বৈচিত্র্য: পরিচয়, ভাষা, জীবনের অবিরাম বদল
• তৃতীয়ঃ আঞ্চলিক পরিচয়, চাষাবাদের বিস্তার এবং তৃতীয় নগরায়ণ: যোগাযোগ, মিশ্রণ আর প্রতিযোগিতার পর্ব
• চতুর্থঃ সম্পর্ক, মিশ্রণ ও নতুন ধারণা : সুলতানী আমল ও বাংলা
প্রথম তিনটি অধ্যায় মিলে ১০৯ পৃষ্ঠা। আর চতুর্থ অধ্যায়টি মাত্র (১১০-১২৪) ১৪ পৃষ্ঠা।
.
৩। প্রথম অধ্যায়ের মূল বিষয় হলো উপমহাদেশের আদিম সংস্কৃতি ও সভ্যতা তথা হরপ্পা সভ্যতা। তারা খুবই সভ্য আর শিক্ষিত জনগোষ্ঠী ছিল। তাদের ছিল অনেক সুন্দর সুন্দর ড্রেইন। সেখান দিয়ে পায়খানা যাওয়া আসা করতো। সকলের সম্মানজনক ভাবে চলতো। সবার ছিল স্বাধীনতা। ছিল বিস্তৃত রাস্তাঘাট, পানি সরবরাহ, ডাস্টবিন, সূক্ষ্ম পরিমাপ পদ্ধতি, শিল্পকলা ইত্যাদি। মূলত তারা ছিল উৎকৃষ্ট এক জনগোষ্ঠী। এই জনগোষ্ঠী মূলত প্রাকৃতিক কারণে ধীরে ধীরে পতিত হয়েছে। তাদের এবং আর্যদের মিশ্রণে গঠিত সমাজের ধর্ম বেদের উপর নির্ভরশীল। বেদের প্রকারভেদ নিয়েও বেশ ভালো আলোচনা কয়েকবার এসেছে।
.
৪। দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিষয় হলো (হিন্দু ও) বৌদ্ধ ধর্ম ও শাসনব্যবস্থা। বৌদ্ধ ধর্ম খুবই ভালো, পরম অহিংসার ধর্ম। গৌতম বুদ্ধের জীবনীর অনেক snippets এখানে সেখানে আছে। আগের অধ্যায়ের মতোই এই অধ্যায়েও এই সমাজের প্রচণ্ড বিস্তারিত বর্ণনা এসেছে। ক্লাস সেভেনের জন্য এত বিস্তারিত আলোচনা কেন জরুরী আমার বোধগম্য হলো না।
.
৫। তৃতীয় অধ্যায়ে দেখানো হয়েছে তৎকালীন সভ্যতার নগরায়ন আর ধর্মীয় স্থাপনার চিত্র আর বর্ণনা। ভারত উপমহাদেশে ও বাংলায় শশাংক রাজত্ব। এখানে মুদ্রা, মন্দির, স্থাপনা, ধর্মিয় গ্রন্থ, দেব-দেবীর ছবি, বৌদ্ধ বিহার আর মন্দিরের ছবিতে সয়লাব। প্রতিমা, মূর্তি, দেব-দেবীর আলোচনাই মুখ্য এই অধ্যায়ে।
.
৬। একশ চব্বিশ পৃষ্ঠার ১০৯ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পড়লে একে সামাজিক বিজ্ঞানের চাইতে ধর্মীয় ইতিহাসের বই বললেই বেশি সঠিক হবে বলে ধারণা হয়েছে।
.
৭। অবশেষে চতুর্ধ অধ্যায়ঃ সুলতানী আমল। শুরুই হয়েছে এভাবেঃ “তোমাদের যদি জিজ্ঞেস করি, ‘বিদেশি' বলতে তোমরা কাদের বোঝাবে? তোমরা চোখ বন্ধ করে বলবে, বিদেশি হলো তারাই যারা আমাদের দেশ অর্থাৎ বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই দেশে এসেছে। তোমাদের উত্তর একদম সঠিক। কিন্তু সুলতানী আমলে যদি কাউকে যদি জিজ্ঞেস করা হতো ‘বিদেশি' কে? তাহলে সে কী বলত জানো? সে বলত, অপরিচিত কোনো ব্যক্তি যে আমাদের গ্রামে বা অঞ্চলে থাকে না, আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতির অংশ নয়, সেই বিদেশি।” (পৃষ্ঠা ১১১)
অর্থাৎ, এতক্ষন পর্যন্ত যা পড়লাম সবকিছুই আমাদের দেশীয়, আমাদের সংস্কৃতির অংশ। এখন যা আসছে সব ভিনদেশি, অন্য সংস্কৃতির জিনিস। আমাদের উপর “সুলতানী তথা ইসলামী সংস্কৃতি” চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।
.
৮। সুলতানী শাসন ব্যবস্থা এদেশে কীভাবে উড়ে এসে জেঁকে বসেছিল তার ধারণা এখন আসছেঃ
“তোমরা তো আগেই জেনেছে, সুলতানী আমলের আগে এই অঞ্চলে পাল ও সেন শাসকগণ শাসন করতেন। কিন্তু সুলতানরা ছিলেন মুসলিম। তাই নতুন শাসকগণ ক্ষমতায় এসে দেশের আইন-কানুন এবং বিচার ব্যবস্থা পুরোটা পাল্টে ফেললেন। এই আমলে শরীয়ত অনুসারে দেশ পরিচালিত হতো। কিন্তু শাসনব্যবস্থা মোটেও ধর্মতান্ত্রিক ছিল না। বৃহত্তর জনগোষ্ঠী যেহেতু অমুসলিম ছিল, তাই স্বাভাবিকভাবেই সবাই সবসময় সুলতানদের শাসন মেনে নিতে চাইত না।” (পৃষ্ঠা ১১২)
.
৯। বর্ণনাভঙ্গী থেকে মনে হবে সুলতানী আমলের আগে সবাই ছিল উদারপন্থী ও গণতান্ত্রিক। কিন্তু সুলতানগন যা ইচ্ছা তা-ই করতো। একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল তারাঃ
“সুলতানগণ ছিলেন সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। এখন মনে হতে পারে, ‘সার্বভৌম ক্ষমতা’ আবার কী? বন্ধুরা, সার্বভৌম ক্ষমতা হলো সর্বময় ক্ষমতা। যে ব্যক্তি এই ক্ষমতার অধিকারী তারা তাদের ক্ষমতার জন্য কারও কাছে জবাবদিহিতা করতে হয় না। তার ইচ্ছাতেই সবকিছু হয়। তিনি যেমন চান, তেমনই হয়।” (পৃষ্ঠা ১১৩)
.
১০। সুলতানী আমলের একমাত্র ভালো জিনিস ছিল যে সে সময়ে উপমহাদেশের ইতিহাসে প্রথম একজন নারী শাসক বনে যান। তার নাম রাজিয়া সুলতানা। ১২৩৬ থেকে ১২৪০ সাল পর্যন্ত তিনি দিল্লীর সালতানাতের দায়িত্বে ছিলেন। শাসক হিসেবে ছিলেন প্রসিদ্ধ, সুলতানের পোশাকে দরবারে উপস্থিত হতে। যুদ্ধশাস্ত্রে ছিলেন পারদর্শী। যুদ্ধের মাঠে সেনাপতি হতেন।
.
১১। উপমহাদেশের ইতিহাসে সবসময়ে হিন্দু ও বৌদ্ধ শাসন থাকলেও তাদের বর্ণনাভঙ্গী থেকে মনে হবে বর্ণবাদের শুরু হয় সুলতানী আমল থেকেঃ
“ইতিহাসবিদদের গবেষণা অনুযায়ী, এ সময়ে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মাবলম্বীর মানুষ বসবাস করলেও মুসলমানগণ অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। আর এর কারণ কিন্তু একটু আগেই বলা হয়েছে। সেই কারণটা মনে আছে তো? আচ্ছা, কারণটা আরেকবার মনে করিয়ে দিচ্ছি। সুলতানী আমলের শাসকগণ সবাই ছিলেন মুসলিম এবং সে জন্যই মুসলিমরা অন্যদের থেকে সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল।
মুসলমান সমাজে মূলত দুইটি শ্রেণী ছিল। একভাগে ছিল বাইরে থেকে আসা অভিজাত সম্প্রদায় … অন্যভাগে ছিল স্থানীয় ধর্মান্তরিত সাধারণ শ্রেণী। অভিজাত শ্রেণী নিজেদের আশরাফ ও অন্যদের আতরাফ মনে করতেন। আশরাফ ও আতরাফদের মধ্যে মেলামেশা, বিয়েশাদী, দাওয়াতের আদানপ্রদান একেবারেই ছিল না। বর্তমানেও এ ধরনের বিভাজন আমরা দেখতে পাই। সমাজের ‘দলিতদেরকে' অন্ত্যজ ও অপাংক্তেয় মনে করা হয়।” (পৃষ্ঠা ১১৫)
.
১২। বর্ণবাদের আলোচনা যেহেতু এসেছেই তাই হিন্দুদের বর্ণবাদও আসা উচিত। তবে হিন্দু সমাজে বর্ণপ্রথা “সুলতানী আমলে” অত্যন্ত কঠোর ছিল। (পৃষ্ঠা ১১৯)
.
১৩। বর্ণভেদ ও সতীদাহের মতো বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ একই ধরণের জঘন্য কাজ। আর এসব জঘন্য কাজ দূর করেছিল হিরোরা। সেই হিরোরা ছিল খোদ হিন্দুদের মধ্যে রাজা রামমোহন রয়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। আর অন্য হিরো ছিল ব্রিটিশ উপনিবেশ।
.
১৪। যেন “অমানবিক দাসপ্রথা” সুলতানী আমলেই চালু হয়েছিল। এই অমানবিক দাসপ্রথাও আমাদের ব্রিটিশ মনিবগন নিষিদ্ধ করেনঃ
.
“… ইতিহাসের এই মন্দটুকুও তোমাদের জানতে হবে। সুলতানি আমলে সমাজের বিভিন্ন স্তরে দাসপ্রথা প্রচলিত ছিল। তোমরা হয়তো জানতে চাইতে পারো দাসপ্রথা কী? দাসপ্রথা হলো অমানবিক একটি ব্যবস্থা যার মাধ্যমে বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে মানুষের কেনা-বেচা হতো। এই ব্যবস্থায় ধনীরা ব্যক্তিকে কিনে নিত এবং ক্রীত ব্যক্তি তার সম্পত্তি হিসেবে যেকোনো কাজ করতে বাধ্য থাকত। সুলতানি আমলেও এই দাসপ্রথার মাধ্যমে মানুষের কেনা-বেচা হতো। দাসগণ অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করত। তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার কোনো মূল্য ছিল না। সুলতানি আমল ও মোগল আমল শেষে ব্রিটিশ উপনিবেশের মধ্যমভাগে আইন করে এই অমানবিক প্রথা নিষিদ্ধ করা হয়।” (পৃষ্ঠা ১১৯)
.
পাঠ্যবইতে সুলতানী আমলের দাসপ্রথা উল্লেখ করা হলেও এর পূর্বে হিন্দু শাসকদের সময়কার দাসপ্রথার ব্যাপারটা কোনো এক বিচিত্র কারণে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে পড়ুনঃ  https://www.frommuslims.com//হিন্দুধর্মের-দাসপ্রথা/ 
.
১৫। সুলতানী আমলে নারীদের অবস্থা ছিল অনেক শোচনীয়। (পৃষ্ঠা ১২০)
.
১৬। প্রাচীন হিন্দু ও বৌদ্ধ শাসনব্যবস্থার অর্থনৈতিক আমলের বিস্তারিত বর্ণনা থাকলেও সুলতানী আমলের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে বহিরাগত পর্যটকের উৎস বাদে তেমন কিছুই জানা যায় না। (পৃষ্ঠা ১২০)
.
১৭। পুরো বইয়ের শতাধিক ছবি আছে। আছে অনেক মন্দিরের ছবি, অনেক অনেক দেবদেবী, মূর্তি-প্রতিমার ছবি। মসজিদের ছবি আছে তিনটা। নির্দিষ্ট করে বললেঃ
.
১২৪ পৃষ্ঠার বইতে ১৯২+/- টি ছবি
৩৪টি ম্যাপের ছবি
১৮টি মন্দির+প্যাগোডার ছবি
৩টি মসজিদের ছবি
১৫টি ধর্মীয় মূর্তি/প্রতিমা
৩৮টি মুদ্রা
.
১৮। যেতে যেতে সুলতানী আমল কত খারাপ সেটা আবার বলে যাই। যদিও “ইবনে বতুতা সুলতানী আমলে বাংলার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে বাংলায় যত সস্তায় জিনিসপত্র কিনতে পাওয়া যেত, তা পৃথিবীর অন্য কোথাও পাওয়া যেত না। কিন্তু সস্তায় জিনিসপত্র কেনার মতো সামর্থ্য কতজনের ছিল তা অবশ্য কোনো পর্যটকের লেখায় পাওয়া যায় না। … সে-সময়ে সোনা, রূপা এবং তামার পয়সার প্রচলন ছিল। … তবে সাধারণ মানুষ কড়ির মাধ্যমে বিনিময় করত। সমাজে শ্রেণীবৈষম্য প্রকট ছিল। সমাজের একদিকে যেমন বিত্তবানদের বিলাসী জীবন, ঠিক তেমনি উল্টো দিকে সংগামী মানুষ দুমুঠো খাবারের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করত।” (পৃষ্ঠা ১২১)
.
১৯। অত্যন্ত সুক্ষভাবে সুলতানী আমলের নামে মুসলিম বিদ্বেষ ঢোকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
.
২০। হিন্দু ও বৌদ্ধ সভ্যতা ও ইতিহাসের প্রতি মুগ্ধতা সৃষ্টির চেষ্টা করানো হচ্ছে।


[৮] পাঠ্যপুস্তক পড়ে মিথ্যা শিখবে আপনার শিশু।

লেখা: মিজানুর রহমান
ডক্টরাল স্কলার, প্রত্নতত্ত্ববিদ্যা, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি

ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুশীলন বই। পৃ: ৯৮। ষষ্ঠ শ্রেণী। 


'বখতিয়ার খলজী অসংখ্য বিহার ও লাইব্রেরী ধ্বংস করেছেন' এরকম অনেক অনৈতিহাসিক, অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েই লিখা হয়েছে এবারের স্কুলের পাঠ্যবই।কোনো নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক সোর্সই এ ধরনের বক্তব্যের সত্যতা প্রতিপাদন করে না।মনে হয়েছে, ইতিহাস নয় বরং লেখকদের কারো কারো নিজস্ব বিশ্বাস প্রতিফলিত হয়েছে বইয়ের পাতায় পাতায়। পাক-ভারত-বাংলাদেশ এক সময়ে ছিলো বৌদ্ধ অধ্যুষিত। সেই বৌদ্ধরা কিভাবে এদেশ থেকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হয়ে গেলো তা নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়েছে তবে তার কোনোটাতেই বখতিয়ার খলজীকে অনেকগুলো বিহার ও লাইব্রেরী ধ্বংসের জন্য দায়ী করা হয় নাই।কয়েকজন নালন্দা (বিক্রমশীলা বিশ্ববিদ্যালয়) ধ্বংসের জন্য বখতিয়ার খলজীকে দায়ী করলেও সেটাকে আবার অধিকাংশ ঐতিহাসিক নাকচ করে দিয়েছেন due to prejudice rather than fact.(দেখুন;Truschke,A. 2018. THE POWER OF THE ISLAMIC SWORD IN NARRATING THE DEATH OF INDIAN BUDDHISM, Journal of the history of religion, Chicago University press. Vol. 57(4), P.406-435)।

রাধাকৃঞ্চ চেীধুরী নালন্দায়  ১৯৬০-৭২ সাল পর্যন্ত পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতাত্ত্বিক খননের উপর ভিত্তি করে 'Decline of the University of Vikramasila' প্রবন্ধ লিখে পরিষ্কারভাবে দেখিয়েছেন যে বখতিয়ার খলজী'র বাংলা অভিযানের সাথে নালন্দার ধ্বংসের কোনো সম্পর্কই ছিলো না।
রাধাকৃঞ্চ চেীধুরী লিপিতাত্ত্বিক (Epigraphic) ও প্রত্নতাত্ত্বিক উপাত্ত দিয়ে দেখিয়েছেন যে, নালন্দা ধ্বংসের সাথে বিজয় সেনের যুক্ততা ছিল যিনি সেন বংশের প্রতিস্ঠাতা হেমন্ত সেনের ছেলে ছিলেন।তাদের বসবাস ছিল বর্তমান রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানার দেওপাড়া'য়। দেওপাড়াতে প্রাপ্ত একটি লিপিস্বাক্ষ্যের ভিত্তিতে তিনি এরুপ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন (দেখুন:Chaudhary, R. 1978. Decline of the University of Vikramasila, Journal of the Indian History, Vol. LVI, Part II)।

এ বিষয়গুলো অনেক জটিল এবং পুরো রহস্য অনুদঘাটিত। তদুপরি এগুলোর সাথে আছে উপমহাদেশের ক্ষমতার রাজনীতির নানা জটিল হিসেব-নিকেশ। এরকম বিষয়সমূহ উচ্চতর অধ্যয়নের জন্য বিবেচনা করা উচিত, স্কুলের জন্য তা মোটেও উপযুক্ত নয়।
বইটিতে আরো অনেক অসংগতি রয়েছে। বিশেষ করে বাংলার মধ্যযুগের ইতিহাসকে খারাপভাবে উপস্থাপনে নানা চাতুর্যের আশ্রয় নেয়া হয়েছে। একই সাথে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত যার মাধ্যমে বাংলার কৃষকদেরকে ভূমি'র মালিকানা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল সেটাকে মহিমান্বিত করা হয়েছে ! আমাদের পূর্বপুরুষেরা যে জমিদারীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন আজ আমাদেরকে তা ভূলিয়ে দিয়ে তাদের মাহাত্ন আর গুণগান শেখানো হচ্ছে?

এনসিটিবিটি কিসের উপর ভিত্তি করে লেখক আর কন্টেন্ট নির্ধারণ করে বুঝতে পারলাম না।


[৯] ইতিহাস বিকৃতির পিছনের গল্প।


পাঠ্যপুস্তকে ইতিহাস বিকৃতি হয়েছে। এটা তো সবাই বলছে। চলুন আমি আপনাদেরকে ইতিহাস বিকৃতির পিছনের গল্প শোনাই...


যাকে কেন্দ্র করে অধিকাংশ ইতিহাস বিকৃতি হয়েছে। তিনি হলেন ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খিলজি (রহ)। একজন মুসলিম সেনা প্রধান।


বঙ্গদেশের রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামের প্রচার বিস্তারের ক্ষেত্রে বখতিয়ার খিলজীর অতুলনীয় অবদান ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে রয়েছেন। তিনিই সর্বপ্রথম মুসলিম হিসেবে বাংলা জয় করেছিলেন। 


সুতরাং আজ আমি আপনি যে, মুসলমান হতে পেরেছে এর পিছনে তার অবদান রয়েছে। এক কথায় তিনি বাঙালি মুসলমানের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তিত্ব। এটাই তার সবচেয়ে বড় অপরাধ। অতএব তাকে যদি ইতিহাসের খল নায়ক বানানো যায় তাহলে বাঙালির মনে অতি সহজেই মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষ ঢুকানো যাবে, মুসলিম শাসক ও শাসন ব্যবস্থার প্রতি বিদ্বেষ ঢুকানো যাবে। সেই নীলনকশা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই ইতিহাস বিকৃতির এই অপপ্রয়াস। টকশোতে আসিফ নজরুল ভাই যথার্থই বলেছেন: বইয়ের রচয়িতাদের উদ্দেশ্য হলো ভুল তথ্য দিয়ে হলেও ব্রিটিশ শাসনপূর্ব মুসলিম শাসকদেন হেয় করা।


[১০] দাঁড়ি নিয়ে কটুক্তি... 


দাঁড়ি হলো ইসলামের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি নিদর্শন। এমন কোন নবী অতিবাহিত হয়নি, যার চেহারা মোবারকে দাড়ি ছিল না। ইসলামের এই গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন (শিয়া'র) নিয়েও পাঠ্যপুস্তকে কটুক্তি করা হয়েছে খুব সূক্ষ্মভাবে চতুরতার সাথে...


ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুশীলন বই। পৃ: ১৬। ষষ্ঠ শ্রেণী।

একটি ভাল্লুক কারখানার সামনে আসায় কারখানার ফোরম্যান তাকে বলল; এই তুমি কাজে যাচ্ছ না কেন? তাড়াতাড়ি কাজে যাও। ভাল্লুক বলল; আমি তো মানুষ না, আমি ভাল্লুক। কিন্তু ফোরম্যান কিছুতেই মানতে নারাজ যে, সে মানুষ না। সে তাচ্ছিল্য ভরে বারবার একই কথা বলছে; 'তুমি হচ্ছো একটা বোকা মানুষ যার উচিত দাড়ি চাঁছা এবং তুমি পড়ে আছো একটা পশমের কোর্ট।'


এই একই কথা ফোরম্যান, ম্যানেজার, তিন জন ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ভাল্লুকের মাধ্যমে নানাভাবে ৬ বার উল্লেখ করা হয়েছে। উক্ত গল্পের মাধ্যমে দাঁড়িকে কতটা ছোট করা হয়েছে তা বুদ্ধিমান মাত্রই টের পাচ্ছেন। একজন মানুষ ও ভাল্লুকের মাঝে পার্থক্য স্রেফ দাঁড়ি? দাড়ি না থাকলে মানুষ আর দাড়ি থাকলেই ভাল্লুক। তাই তো প্রত্যেকবার বলা হচ্ছে তোমার উচিত দাড়ি চাঁছা, তোমার দরকার দাঁড়ি চাঁছা। সেইব করা ইত্যাদি। যেন মানুষের দাঁড়ি থাকতে নেই, দাড়ি থাকে ভাল্লুকের। এজন্যই তো দাঁড়ি চাঁছতে বলা হলেও পশমের কোর্ট খুলতে বলা হয়নি। বলা উচিতও না, কেননা পশমের কোর্ট মানুষ হরহামেশাই পরে থাকে। এখানে টার্গেট হচ্ছে শুধুমাত্র দাঁড়ি।


ভাল্লুক কে বারবার বলা হয়েছে, তুমি হচ্ছো একটা বোকা মানুষ। কেন বোকা বলা হয়েছে? এর ব্যাখ্যা কী? বোকা বলা হয়েছে এই কারণে যে, তোমার উচিত দাঁড়ি চাঁছা অথচ তুমি চাঁছোনি। যার অর্থ হলো- যারাই দাড়ি রাখে অর্থাৎ দাঁড়ি চাঁছে না। তারা সবাই বোকা মানুষ। অথচ ভাল্লুকের দিকে লক্ষ করে দেখুন দাঁড়ি বলতে আমরা যা বুঝি তা কি ভাল্লুকের চেহারায় স্পষ্ট? সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শুধুমাত্র দাঁড়িকে কটুক্তি করা হয়েছে। এই গল্পটি পড়ে বাচ্চাদের মনে দাঁড়ির প্রতি নেগেটিভ ধারণা সৃষ্টি হবে। তারা দাঁড়িকে তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে দেখবে রাস্তাঘাটে দাঁড়ি বিশিষ্ট মানুষকে কটুক্তি করবে। এমন একটি বিশৃংখল সমাজ বাস্তবায়নের লক্ষেই লেখকগণ পাঠ্যপুস্তকে ইসলাম বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে।


উপসংহার:-


তারা পাঠ্যপুস্তকে ইসলাম ও সমাজ বিরোধী অপসংস্কৃতি ছড়িয়েছে, ইতিহাস বিকৃতি করেছে, ইসলাম বিদ্বেষ ছড়িয়েছে, অন্যের লেখা চুরি করেছে। তারপরও কি তারা নিজেদের পদে বহাল থাকবে? আমরা কি আমাদের সন্তানদেরকে এভাবে ধ্বংস হতে দেখতে পারবো? আমরা কি প্রতিবাদ করব না? আন্দোলন করবো না? তাদের পদত্যাগের দাবি জানাবো না?


আমরা আমাদের লিখিতপত্রে  সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, এবং আমরা আশাবাদী যে সরকার সাধারণ জনগণের দাবি মেনে নিবেন এবং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধর্মহীন, সমাজ বিরোধী ও ইসলাম বিদ্বেষী হওয়া থেকে রক্ষা করবেন। পরিশেষে একটি আক্ষেপ বানী দিয়ে শেষ করছি।

নতুন পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের আখেরী পরিণতি যদি বাবা-মা জানত, তাহলে সন্তানকে শিক্ষিত করার চেয়ে মূর্খ রাখাই বেশি শ্রেয় মনে করতো। 


রবিউল ইসলাম। 

লেখক ও গবেষক, সত্যমনা ব্লগ। 


বিঃদ্রঃ সংক্ষিপ্ততার দিক লক্ষ্য করতে গিয়ে অনেক কিছুই উল্লেখ্য করতে পারিনি। কোন বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে আমাদের 'সত্যমনা' ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে পারেন। কিংবা আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। ০১৭০০৮৮২৭০৪।



আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিন

COMMENTS

EMAIL: 1

নাম

article,18,Atheism,29,comparative-religion,3,converted-muslim,12,current-issue,30,disproof,10,Dogma,6,dua-ruqyah,1,face-the-letter,2,feminism,11,free-thinking,7,freedom,10,Islam,1,Liberalism,2,Literature,5,question-answer,24,Quran,3,Robiul Islam Official,2,science,5,secularism,4,secularist,8,story,13,
ltr
item
সত্যমনা: নতুন পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ধর্মহীন জাতি গঠনের মাস্টারপ্লান
নতুন পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ধর্মহীন জাতি গঠনের মাস্টারপ্লান
যেভাবে ইসলামী কালচার হটিয়ে পশ্চিমা কালচার গিলানো হচ্ছে: ২০২৩ সালে মাদ্রাসার ১ম শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকের ইংরেজি বইয়ের প্রচ্ছদে শিক্ষার্থীদের মাথা থেকে ট
https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiSyRLCpgoskJwuXirx4aQQJnjUsU1xQa3K1ms4Dpz6r1AfpSIXmyjnNkuND9rMD3_GmmIL7jqr-ysa-gpFog_S_HhtyjJC8EsD6NncMUztAf07Se7rbqt67rDr7xQKdgDTUu85ZFBVXBiszfTYKZboNPDIN7jZ605P9G_8uFXNpRFuEicrqakODIimxA/s320/20230123_184341.jpg
https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiSyRLCpgoskJwuXirx4aQQJnjUsU1xQa3K1ms4Dpz6r1AfpSIXmyjnNkuND9rMD3_GmmIL7jqr-ysa-gpFog_S_HhtyjJC8EsD6NncMUztAf07Se7rbqt67rDr7xQKdgDTUu85ZFBVXBiszfTYKZboNPDIN7jZ605P9G_8uFXNpRFuEicrqakODIimxA/s72-c/20230123_184341.jpg
সত্যমনা
https://www.sotto-mona.com/2023/01/formulation-of-new-textbooks-is-a-master-plan-to-create-a-secular-.html
https://www.sotto-mona.com/
https://www.sotto-mona.com/
https://www.sotto-mona.com/2023/01/formulation-of-new-textbooks-is-a-master-plan-to-create-a-secular-.html
true
8059754538313808851
UTF-8
Loaded All Posts Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All জনপ্রিয় পোস্ট পড়ুন LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS PREMIUM CONTENT IS LOCKED STEP 1: Share to a social network STEP 2: Click the link on your social network Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy Table of Content