উদ্ভাবিত মুক্তচিন্তা পূর্ণতা পাক সত্যের ছোঁয়ায় - সত্যমনা আমাদের সকল আপডেট পেতে এখনি সাবস্ক্রাইব করুন

বিশ্বাসের গল্প (৩)

 জাফর আমার বন্ধুর ভাই, তার পুরো নাম জাফর ইকবাল। এই নাম নিয়ে তার ভারী অহমিকা। সে মনে করে লেখক জাফর ইকবালের সাথে তার অনেক মিল আছে। ভীষণ ভক্ত। তার মতো ভক্ত মনে হয় না জাফর ইকবালের আর একটাও আছে! সারা পাড়ার লোক জানে যে, তার ‘বিশ্বাস’ বিষয়টিতে এলার্জি আছে। মোটামুটি বিরক্তও বটে। কেননা কথায় কথায় প্রমাণ চাওয়ার যে প্রবণতা তার হয়ে গেছে তা রীতিমতো স্থান কাল পাত্র বিরোধী-ই ভাবে সবাই।


যেমন একদিনের ঘটনা- তার প্রতিবেশী আন্টি তাকে রাস্তায় দেখে বললো, এই জাফর! তোমার মা তোমাকে লালুর দোকান থেকে তেল নিতে বলেছে। সে ‘হ্যাঁ না’ কিছু না বলে পাল্টা প্রশ্ন করলো: আপনাকে কেন বললো? আমাকে তো বলতে পারতো, এখন আমি বুঝবো কী করে যে, মা সত্যিই তেল নিতে বলেছে। প্রতিবেশী আন্টি বিরক্ত হয়ে বললো: এতই যখন অবিশ্বাস ফোন করেই জেনে নিতে পারো। শেষমেশ সে ফোন করেই ঘরে তেল নিয়ে গিয়েছে।

পরবর্তীতে এনিয়ে যদিও সেই আন্টি তার মাকে নালিশ করেছে, কিন্তু তেমন কোন পতিক্রিয়া পায়নি। কারণ এমন নালিশ শুনতে শুনতে তিনি প্রায় অভ্যস্ত। এগুলো আর তার কাছে নালিশ মনে হয় না।


আমি এ পাড়ায় নতুন, আমার এতসব জানার কথা নয়, আমার বন্ধু রাশেদ ইকবাল-ই মাঝে মাঝে তার ভাইয়ের এসব কীর্তি কলাপ শোনায় আর কি।

সেও যথেষ্ট বিরক্ত তার প্রতি। সবসময় জাফর তার সাথে ধর্ম নিয়ে লেগে থাকে, বলে কিনা: মুক্তি আসে যুক্তির পথ ধরে। বিশ্বাস কখনো মুক্তি দিতে পারে না। বিশ্বাস আসলে এক প্রকার ভাইরাস। রাশেদ তার কথায় পাত্তা দেয় না। তবে মনে মনে খুব বিরক্ত হয়।

একবার সে আমার বুদ্ধিতে

প্যারাডক্সিকাল সাজিদ বইটার প্রথম গল্পটি তাকে পড়তে বলে। তারপর ঘটে এক অদ্ভুত ঘটনা যা ইতিহাসের পাতায় খোদাই করে লেখা উচিত।


ঘটনাটা হলো- সে প্যারাডক্সিকাল সাজিদের প্রথম গল্পটি পড়ে বেশ টেনশনে পরে গেল। তার মাথায় শুধু ঘুরতে থাকলো বইয়ের সেই অংশটুকু- ❝- আমি বললাম,- ‘হ্যাঁ। পৃথিবীতে অবিশ্বাসী বলে কেউই নেই। সবাই বিশ্বাসী। সবাই এমন কিছু না কিছুতে ঠিক বিশ্বাস করে, যা তারা আদৌ দেখেনি বা দেখার কোন সুযোগও নেই। কিন্তু এটা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলে না। তারা নির্বিঘ্নে তাতে বিশ্বাস করে যায়। তুইও সেরকম। ‘


সাজিদ বললো,- ‘আমি? পাগল হয়েছিস? আমি না দেখে কোন কিছুতেই বিশ্বাস করিনা, করবোও না। ‘


– ‘তুই করিস। এবং, এটা নিয়ে তোর মধ্যে কোনদিন কোন প্রশ্ন জাগে নি। এবং, আজকে এই আলোচনা না করলে হয়তো জাগতোও না। ‘


সে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। বললাম,- ‘জানতে চাস?’


– ‘হু। ‘


– ‘আবার বলছি, কিছু মনে করিস না। যুক্তির খাতিরে বলছি। ‘


– ‘বল। ‘


– ‘আচ্ছা, তোর বাবা-মা’র মিলনেই যে তোর জন্ম হয়েছে, সেটা তুই দেখেছিলি? বা,এই মূহুর্তে কোন এভিডেন্স আছে তোর কাছে? হতে পারে তোর মা তোর বাবা ছাড়া অন্য কারো সাথে দৈহিক সম্পর্ক করেছে তোর জন্মের আগে। হতে পারে, তুই ঐ ব্যক্তিরই জৈব ক্রিয়ার ফল। তুই এটা দেখিস নি।


কিন্তু কোনদিনও কি তোর মা’কে এটা নিয়ে প্রশ্ন করেছিলি? করিস নি। সেই ছোটবেলা থেকে যাকে বাবা হিসেবে দেখে আসছিস, এখনো তাকে বাবা ডাকছিস। যাকে ভাই হিসেবে জেনে আসছিস, তাকে ভাই। বোনকে বোন।


তুই না দেখেই এসবে বিশ্বাস করিস না? কোনদিন জানতে চেয়েছিস তুই এখন যাকে বাবা ডাকছিস, তুই আসলেই তার ঔরসজাত কিনা? জানতে চাস নি। বিশ্বাস করে গেছিস। এখনো করছিস। ভবিষ্যতেও করবি। স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাসটাও ঠিক এমনই রে। এটাকে প্রশ্ন করা যায়না। সন্দেহ করা যায়না। এটাকে হৃদয়ের গভীরে ধারন করতে হয়। এটার নামই বিশ্বাস।-❞


গল্পটি পড়ে জাফর যখন ভাবে তার মা বাবার বিষয়টি বিশ্বাস না করে উপায় নেই। তখনই তার অস্থিরতা বেড়ে যায়। শুধু বিশ্বাসের উপর ভর করে কোন কিছু মেনে নিতে হবে তা সে স্বপ্নেও ভাবেনি। অনেক চিন্তা-ভাবনা করে সে সিদ্ধান্ত নিয়েই নিল, যে করেই হোক ‘ডি এন এ’ টেস্ট করতেই হবে। তাও আবার মা বাবাকে না জানিয়ে। বহু কষ্ট ও কৌশলের পর তার ডাক্তার বন্ধুর হাতে পায়ে ধরে অবশেষে সে কাজটি করাতে সক্ষম হলো। এটা করাতে তাকে অক্লান্ত কষ্ট পোহাতে হয়েছে। খুব কম মানুষকেই জানিয়েছে কিন্তু তাদের থেকেও কম ‘তিরস্কার বাক্য’ সহ্য করেনি। যাইহোক রেজাল্ট পজেটিভ। সে এখন আর ‘বিশ্বাসের মুখাপেক্ষী নয়’ এটা ভেবেই তার দুঃখগুলো আনন্দে বদলে গিয়েছে। সে এও ভেবে আনন্দ পাচ্ছে যে, সাজিদ যে বিষয়টির সমাধানে আসতে না পেরে বিশ্বাসী হয়ে গেছে আমি তা করতে পেরেছি। কতটা টেলেন্টেড আমি! কিন্তু ‘ডি এন এ’ টেস্ট আবিষ্কার হওয়ার আগে তো মানুষের বিশ্বাস করা ছাড়া উপায় ছিল না। তা সে ভাবছে না, তাকে বিশ্বাস করতে হচ্ছে না এতেই সে খুশি।


একদিন বিকেলে রাশেদ আমাকে বললো চল, ক্রিকেট খেলতে যাই। আমি আবার ক্রিকেট খেলতে বেশ পছন্দ করি। তাই খুশি খুশি রওনা হলাম। যেতে যেতে বললাম কাদের সাথে খেলবি? সে বললো, ভাইয়ারা মাঠে খেলছে, আমাকে ফোন করে যেতে বললো। চল চল নতুন ম্যাচ শুরু হলো বলে।


সেদিন আর ক্রিকেট খেলা হলো না। কারণ যাওয়ার পরই শুরু হলো তর্ক। তর্কের সূত্রপাত হয়েছিল এভাবে যে, আমি আর রাশেদ বাজি খেলি না। কারণ এটা এক প্রকার জুয়া। জুয়ার প্রায় সবগুলো দোষ-ই এর মধ্যে বিদ্যমান।

কিন্তু জাফর আর তার বন্ধুরা বাজি খেলবে। খেলুক। তাতে আমাদের কোন যায় আসে না। আমরা ফিরেই আসছিলাম এমন সময় জাফর বললো। আচ্ছা তোমাদের বাজি খেলাতে কী সমস্যা? রাশেদ জাবাবে বললো- তুই জানিস না! আমাদের ধর্মে জুয়া হারাম।

প্রতুত্তরে জাফর বললো: তো কী হয়েছে? ধরলাম জুয়া হারাম। এখন খেললে কি হবে?

কী হবে মানে! এসব হালাল হারামের উপরই তো জান্নাত জাহান্নাম ডিপেন্ড করে।কিছুটা উঁচু গলায় বললো রাশেদ।


জাফর মুখ বাকা করে একটা হাসি দিয়ে বললো: আবারও জান্নাত জাহান্নাম! আচ্ছা একটা কথা বল দেখি, তোরা যে জান্নাত জাহান্নাম বিশ্বাস করিস এর ভিত্তি কী?

তোরা কি কখনো তা দেখেছিস? না দেখলে এভাবে ১০০% শিওরলী বিশ্বাস করিস কীভাবে!?


রাশেদকে থামিয়ে দিয়ে এখন আমি বলতে লাগলাম, কে বলেছে আপনাকে যে, জান্নাত জাহান্নাম আমরা না দেখেই বিশ্বাস করি?


জাফর কিছুটা অবাক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকালো। তার বন্ধুরা তর্ক বাদ দিয়ে তাকে খেলা শুরু করতে বললে সে তাদেরকে থামিয়ে দিয়ে আমাকে বললো: তাহলে কি তুমি বলতে চাও তোমারা জান্নাত জাহান্নাম দেখে বিশ্বাস করো?


তাদের সবার চোখে-মুখে অবিশ্বাস ও কৌতুহলের ছাপ স্পষ্ট। আমি কিছুটা দম নিয়ে বলা শুরু করলাম। হ্যাঁ অবশ্যই। আল্লাহ তায়ালা আমাদের রাসূল (স) কে মেরাজের রাতে জান্নাত জাহান্নাম দেখিয়েছেন। আর অথেনটিক তথ্যসূত্রে তা আমাদের কাছে পৌঁছেছে।

জাফর: মুহাম্মদ যে, সত্য বলেছে তার কী গ্যারান্টি?


একদম ঠিক, ‘তার সত্য বলার গ্যারান্টি কী।’ এই প্রশ্নটি এখানে প্রাসঙ্গিক।

চলুন একটু বিশ্লেষণ করে দেখি…


আমাদের সমাজে যদি আমরা কারো সত্যবাদীতা সম্পর্কে যাচাই করতে চাই। তাহলে আমরা যা যা করি, এখানেও ঠিক তাই তাই করে আমরা মুহাম্মদ (স) এর সত্যবাদীতা যাচাই করতে পারি। ইতিহাস পড়লে আমরা দিবালোকের ন্যায় জানতে পারি যে, মুহাম্মদ (স) আরবের নিকট সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন। অর্থাৎ তার নিজের নামে না ডেকে মানুষ তাকে এসব উপনামে ডাকতো।


–তারা সবাই আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছে, আমি তাদের আরেকটু মনোযোগ আকর্ষণ করে বললাম- ‘বিষয়টা কিন্তু যেন তেন নয়।’ খুবই অদ্ভুত ও বিরল। যেমন বাংলাদেশে শেখ মুজিবুর রহমান বঙ্গবন্ধু উপাদিতে ভূষিত হয়েছেন। ‘এমনি এমনি!?’

–তাকে সারাজীবন দিয়ে প্রমাণ করতে হয়েছে যে সে আসলেই বাংলাদেশের বন্ধু। এখন যদি কেউ এই উপাদির সম্পূর্ণ বিপরীত গুণে তাকে সাব্যস্ত করতে চায় যে, সে বাংলাদেশের শত্রু তাহলে তা কতটা বাস্তববিরোধী হবে একবার চিন্তা করে দেখুন তো!


–আর মুহাম্মদ (স) কে মিথ্যাবাদী প্রমাণ করতে যাওয়াটা তার চেয়েও বাস্তববিরোধী। কেননা নবী হওয়ার পর স্বাভাবিক ভাবেই তিনি আরব নেতাদের কাছে শত্রু হয়ে গিয়েছিলেন, তার বিরুদ্ধে এক্সেন নেয়ার জন্য মক্কার অন্যতম নেতা আবু সুফিয়ান ইথিওপিয়ার রাজার কাছে গিয়েছিলেন

সেখানে আবু সুফিয়ানের কাছে রাজার একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল– মুহাম্মদ কি জীবনে কখনো মিথ্যা বলেছে? শত্রু হিসেবে এবং তাৎক্ষণিক তার বিরুদ্ধে এক্সেন নেয়ার জন্য মিথ্যা বলাটাই আবু সুফিয়ানের পক্ষে স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু সেই অবস্থায় দাড়িয়েও সে বলেছিল, না ‘মুহাম্মদ কখনো মিথ্যা বলেনি।’ সে এটাও বলতে পারতো আমার জানা মতে মিথ্যা বলেনি কিংবা আমি জানি না। কিন্তু মুহাম্মদ (স) এর সত্যবাদী হওয়ার বিষয়টি সামাজিক ভাবে এতই স্পষ্ট ছিল যে, ‘তা বলাও তার সুযোগ ছিল না।’


জাফর বললো, হয়তো মুহাম্মদ তখন সত্যবাদী ছিল পরবর্তীতে মিথ্যা বলার অভ্যাস হয়ে গেছে। এমন তো প্রায়ই হয়। তাই না! তার কিছু বন্ধুরাও রাইট বলে মাথা নাড়লো।


আবারও আমি বলতে লাগলাম, তার মানে আপনি বলতে চাচ্ছেন মুহাম্মদ (স) জীবনের ৪০ বছর সত্যবাদী বিশ্বস্ত ছিলেন পরে মিথ্যাবাদী হয়ে গেছেন। তাই তো?


–সে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লো।


–ঠিকাছে, তাহলে বিষয়টির একটু যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখা যাক।


–একটু গভীর ভাবে লক্ষ্য করুন জাফর ভাই! আপনার দাবি মেনে নেয়ার জন্য দুইটা সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী গুণের ‘চুড়ান্ত রূপ’ একটা মানুষের মধ্যে থাকতে হবে। আর এটা বাস্তবিক অর্থে কটতা সম্ভাবনা রাখে সেটাই আমরা দেখবো।


যেমন মুহাম্মদ (স) জীবনের ৪০ বছরে একটাও মিথ্যা কথা বলার প্রমাণ নেই। বরং এত সত্যবাদী ছিলেন যে, তাকে এ নামেই ডাকা হতো।

পরবর্তী ২৩ বছরে এতটা মিথ্যাবাদী হয়ে গেলেন যে, পদে পদে, মুহুর্তে মুহুর্তে মিথ্যা কথা বলে গেলেন!

পুরো জীবনটাই মিথ্যার উপর কাটিয়ে গেলেন!

–এটা কি বাস্তবিক অর্থে সম্ভব!? বাস্তবে এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কতটুকু?


যেমন এরূপ আরো কিছু উদাহরণ-

১/ মাদারত্রেসা খুবই মানবিক একজন মানুষ। কিছু সময়ের বিবর্তনে তিনিই মানবতার শত্রু হয়ে যাওয়াটা কতটা স্বাভাবিক?

২/ সালাম, রফিক, জব্বার এরা বাংলাদেশকে, বাংলা ভাষাকে এতটাই ভালোবাসে যে, ১৯৫২ সালে নিজেদের জীবন দিয়ে তা প্রমাণ করে গেছে।

কিন্তু তারা যদি বেচে থাকতো তাহলে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিদের পক্ষ হয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতো।


এগুলো বলা সহজ, কিন্তু বাস্তবিক অর্থে যতটা অসম্ভব মুহাম্মদ বাকী ২৩ বছর পদে পদে শুধু মিথ্যাই বলে গেছেন এটাও ততটাই অসম্ভব।


তো জাফর ভাই! আপনি শুধুমাত্র আপনার হাইপোথিসিস প্রমাণ করার জন্য এরকম অযৌক্তিক একটা দাবি করতে পারেন না।


জাফর কিছুটা মেনে নেয়ার ভঙ্গিতে বললো। যাইহোক মুহাম্মদ যদি সত্যিও বলে থাকে তাহলেও তো তোমরা তাতে অন্ধবিশ্বাস করছো? তোমরা তো আর জান্নাত জাহান্নাম দেখোনি।


আমি একটা মুসকি হাসি দিয়ে বললাম ভাই সত্যের উপর বিশ্বাস করাটা কি অন্ধ বিশ্বাস তাহলে তো পৃথিবীর সবাই অন্ধবিশ্বাসী। আর আমরা জান্নাত জাহান্নাম না দেখেও মানি এজন্যই তো এটা বিশ্বাস। তবে না বুঝে না জেনে অন্ধবিশ্বাসের মতো নয়। নবী মুহাম্মদ (স) এর উপর নির্ভর করা ছাড়াও তা প্রমাণ করার আরো বহু আরগুমেন্ট রয়েছে।


জাফর একটা চাপা হাসি দিয়ে বললো, তুমি যা-ই বলো! কোনকিছু না দেখে, উপলব্ধি না করে ১০০% বিশ্বাস করা আমি যৌক্তিক মনে করি না।


হঠাৎ মাঠের অন্যপ্রান্ত থেকে একটা বল আসলো আমার দিকে। বলটা ক্যাচ ধরার সাথে সাথে আমার মাথায় আরেকটা আইডিয়া ক্যাচ করলো। আইডিয়াটা অসাধারণ। এখন এটার ভীষণ প্রয়োজন ছিল।


আমি বলটা জাফরের দিকে ছুড়ে দিয়ে বললাম: ক্যাচ, হঠাৎ বলাতে সে বলটি ধরতে পারলো না। আমি বললাম জাফর ভাই আপনার নিশ্চয়ই নিউটনের গতির সূত্রটি মনে আছে,


–ঐ যে, বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু স্থির থাকবে। আর সমবেগে চলতে থাকা বস্তু সমবেগে চলতে থাকবে।


জাফর বললো, হ্যাঁ হ্যাঁ, মনে আছে।

এটাতো একটা ইনটারেস্টিং সূত্র।


সূত্রটিকে ইন্টারেস্টিং বলার কারণ –

বল প্রয়োগ না করলে কিংবা ধাক্কা না দিলে স্থির বস্তু স্থির থাকবে এটা তো আমরা সকলেই জানি। কিন্তু বল প্রয়োগ কিংবা ধাক্কা দেয়ার পর সেই বস্তুটি একই গতিতে সারাজীবন চলতে থাকবে। এটা সত্যিই ইন্টারেস্টিং! যেমন আমি যে বলটি ছুড়ে মেরেছিলাম জাফরের দিকে সে ধরতে না পাড়ায় বলটি নিচে পড়ে গেল। অথচ এই সূত্র অনুযায়ী বলটি একই গতিতে দিক পরিবর্তন না করে আজীবন চলতে থাকার কথা। কিন্তু মধ্যাকর্ষন, বাতাস এসব বাধার কারণে নিচে পড়ে গেছে।


বিষয়টি বোধগম্য নয়। আমরা কখনোই তা দেখিনি বা দেখে বুঝার চান্সও নেই।

কিন্তু বিজ্ঞানের মতে এটাই সত্য।


আমি জাফরকে বললাম আচ্ছা ভাই, সূত্রটি কি আপনি বিশ্বাস করেন?

সে অবাক হয়ে বললো বিশ্বাস করবো না মানে! কী বলছো তুমি। অবশ্যই বিশ্বাস করি। এটা নিউটনের সূত্র বলে কথা। প্রতিষ্ঠিত সূত্র।


– 100% এর মধ্যে কত পার্সেন বিশ্বাস করেন? আর যে কোন মানুষের তা কত পার্সেন্ট বিশ্বাস করা উচিত?


–সে নির্দ্বিধায় বললো: 100%।


আমি মুসকি হাসি দিয়ে বললাম, আপনি যে, এটা 100% বিশ্বাস করেন, এবং দৃঢ়ভাবে বলছেন সাধারণ অসাধারণ সমস্ত মানুষের তা 100% বিশ্বাস করা উচিত। অথচ আপনি কি তা কখনো প্রত্যক্ষভাবে যাচাই করে দেখেছেন কিংবা কখনো দেখার সুযোগ আছে?


তোতলানো ভঙ্গিতে জাফর বললো: আমি না দেখি, বিজ্ঞানীরা তো যাচাই করে দেখেছেন।


কথাগুলোতে আমি খুব মজা পাচ্ছিলাম কারণ আমার উপর করা প্রশ্নগুলোই যে ছুড়ে মারার সুযোগ পাব তা ভাবিনি। তার এই উত্তরে যথারীতি

আমিও বললাম: বিজ্ঞানীরা যে, সত্য বলছে তার গ্যারান্টি কী?


এ উত্তর অবশ্য সে দিতে পারলো না শুধু এতটুকু বললো। বিজ্ঞানীরা নাকি সবসময় সত্যই বলে। আর আমি নাকি কীসব অবান্তর প্রশ্ন করছি!


যাইহোক শেষমেশ আমি তাকে বললাম: ওকে বুঝলাম যে, বিজ্ঞানীরা সত্য বলছে। আর সেটা তারা প্রত্যক্ষভাবে যাচাই করেও দেখেছে।

কিন্তু আমি আপনি আমরা সাধারণ মানুষ তো তা দেখিনি। কিংবা দেখার চান্সও নেই। তাহলে আমাদের কি তা না দেখে না বুঝে বিশ্বাস করা উচিত?


–সে কিছু বললো না। কারণ বিজ্ঞানকে চ্যালেঞ্জ করে কীভাবে সে বলবে যে, ‘উচিত নয়।’ কেননা সত্য তো সবার জন্যই সত্য, সে বুঝুক আর নাই বা বুঝুক। দেখুক আর নাই বা দেখুক।


বুঝতে পারছি জাফর ইকবালের আর কিছু বলতে ইচ্ছা করছে না। কিন্তু আমি মনে মনে ভাবছিলাম– যে ছেলেটি বিশ্বাসকে এড়িয়ে চলবে বলে নিজের মা বাবার ডি এন এ টেস্ট করতে পারে, এ মুহুর্তে সে কী ভাবছে?


মাগরিবের আজান দিয়েছে অনেকটা সময় হয়ে গেছে। রাশেদ আর আমি তাড়াহুড়ো করে মসজিদে রওনা দিলাম জামাত ধরতে। যেতে যেতে রাশেদ বললো দেখলি রবি! যে বিজ্ঞান মানুষকে ২৫০ বছর ধরে মিথ্যার মধ্যে রেখেছে’ তাকে নির্দ্বিধায় বিশ্বাস করতে পারে অথচ যে ব্যাক্তি জীবনেও একটি মিথ্যা কথা বলেনি তাকে বিশ্বাস করতে পারে না!!


সত্যমনা লেখক, Robiul Islam, পেইজ- সত্যমনা ও নাস্তিকতার মূলোৎপাটন।



আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিন

COMMENTS

নাম

article,3,Atheism,9,comparative-religion,2,converted-muslim,1,current-issue,2,disproof,3,Dogma,1,face-the-letter,1,feminism,5,free-thinking,3,freedom,2,Islam,1,Liberalism,1,Literature,5,question-answer,10,Quran,1,Robiul Islam Official,1,science,2,secularism,2,secularist,1,story,8,
ltr
item
সত্যমনা: বিশ্বাসের গল্প (৩)
বিশ্বাসের গল্প (৩)
জাফর আমার বন্ধুর ভাই, তার পুরো নাম জাফর ইকবাল। এই নাম নিয়ে তার ভারী অহমিকা। সে মনে করে লেখক জাফর ইকবালের সাথে তার অনেক মিল আছে।
https://1.bp.blogspot.com/-DdXKXQqpqbo/YVyK-cvCJwI/AAAAAAAAAEo/tzfJKl_Qdfwulhsa6KLhRGDvnVW1iMLrQCNcBGAsYHQ/s320/PicsArt_05-29-06.19.39.jpg
https://1.bp.blogspot.com/-DdXKXQqpqbo/YVyK-cvCJwI/AAAAAAAAAEo/tzfJKl_Qdfwulhsa6KLhRGDvnVW1iMLrQCNcBGAsYHQ/s72-c/PicsArt_05-29-06.19.39.jpg
সত্যমনা
https://www.sotto-mona.com/2021/10/story-of-faith-2_0852216356.html
https://www.sotto-mona.com/
https://www.sotto-mona.com/
https://www.sotto-mona.com/2021/10/story-of-faith-2_0852216356.html
true
8059754538313808851
UTF-8
Loaded All Posts Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All জনপ্রিয় পোস্ট পড়ুন LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS PREMIUM CONTENT IS LOCKED STEP 1: Share to a social network STEP 2: Click the link on your social network Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy Table of Content