'ধর্ম' শব্দের উৎপত্তি:
“ধর্ম ” শব্দটি সংস্কৃত প্রকৃতি প্রত্যয়জাত শব্দ। সংস্কৃত “ ধৃ ” ধাতু হতে ধর্ম শব্দের উৎপত্তি । √ধৃ + মন = ধর্ম। "ধৃ" শব্দের অর্থ হল ধারণ করা , লব্ধ করা তথা অর্জন করা। আর “ মন ” হল প্রত্যয় । অতএব ধর্ম শব্দের অর্থ দাড়াল “ মন যাহা ধারণ করে রয়েছে ”।
এ বিবেচনায় নাস্তিক্যবাদও একটি ধর্মের আওতাধীন। কেননা নাস্তিকরাও বিশেষ কিছু চিন্তাধরা লালন করে এবং দর্শনকে ধারণ করে।
তবে নাস্তিক কমিউনিটি তাদের মতাদর্শকে ধর্ম মানতে নারাজ। তারা মনে করে না যে নাস্তিকতাও একটি ধর্ম। এ ব্যপারে তারা যুক্তি দেয় যে,
নাস্তিক্যবাদ ধর্ম হলে বাগান না করাও একটি শখ, ক্রিকেট না খেলাও একটি ক্রীড়া, কোকেইন সেবন না করাও একটি নেশা।
তাদের মূল যুক্তি হচ্ছে ধর্ম পালন থেকে বিরত থাকা কিভাবে ধর্মের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। ধর্ম পালন না করাও যদি ধর্ম হয় তাহলে ক্রিকেট না খেলাও তো একটা খেলা। তাই নয় কি!
তাদের যুক্তির দুইটি খণ্ডন তুলে ধরছি:
১. তাদের সাথে একমত হয়েই বলছি যে, ধর্ম পালন না করা কোন ধর্ম নয়। যে ব্যক্তি ধর্ম পালন থেকে বিরত থেকেছে সে কোন ধর্মের আওতায় নেই। কেননা ধর্ম থেকে বিরত থাকাকেই নাস্তিকতা বলে না। ধর্ম পালন না করলেই কেউ নাস্তিক হয়ে যায় না। যেমন রফিক নামাজ পড়ে না, পূঁজা করে না ইত্যাদি ধর্মের কোন বিশ্বাস-ই লালন করে না। তাকে আমরা কোন ধর্মের অনুসারী বলবো না। কিন্তু সে যদি শুধু বিরত থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অন্য কোন বিশ্বাস চিন্তাধারা লালন করে। যেমন নাস্তিকতা চর্চা করে। 'স্রষ্টা বলতে কেউ নেই' এই বিশ্বাস করে। বিশেষ কিছু দৃষ্টিভঙ্গি ফলো করে। তাহলে তো সে একটি ধর্ম থেকে বিরত থেকে আরেকটি ধর্মে প্রবেশ করলো। তখন তো তাকে অবশ্যই ধর্মের অনুসারী বলা হবে। নাস্তিক্যধর্মের অনুসারী বলা হবে। কেননা সে মনের মধ্যে বিশেষ কিছু চিন্তাধারা এবং দর্শনকে ধারণ করেছে।
২. নাস্তিকরা যুক্তি দেয়ার সময় ধরেই নিয়েছে যে বিরত থাকার নামই হলো নাস্তিকতা। অথচ এটা সম্পূর্ণ ভুল। ইতিপূর্বে আমরা জেনেছি যে, শুধুমাত্র ধর্ম পালন থেকে বিরত থাকলেই কেউ নাস্তিক হয়ে যায় না। এছাড়াও তাদের যুক্তিতে আরেকটা সমস্যা রয়েছে। ধর্ম শব্দটি হচ্ছে ব্যপক অর্থবোধক। সে অর্থে পানির মাটির সবকিছুরই একটা ধর্ম রয়েছে। কিন্তু শখ, খেলা, নেশা শব্দগুলো হচ্ছে নির্দিষ্ট। এগুলো নির্দিষ্ট একটা অর্থকে বুঝাতেই ব্যবহৃত হয়। ক্রিয়া শব্দটি এর বিপরীত। এটি ব্যপক শব্দ। খাওয়া-দাওয়া করাও যেমন একটি ক্রিয়া। খাওয়া-দাওয়া থেকে বিরত থাকাও কিন্তু একটি ক্রিয়া। নেশা করাও যেমন ক্রিয়া, নেশা থেকে বিরত থাকাও ক্রিয়া। অনুরূপ বাগান করাও যেমন ক্রিয়া, বাগান করা থেকে বিরত থাকাও একটা ক্রিয়া।
ঠিক একই ভাবে ধর্ম শব্দটিও ব্যপক অর্থবোধক হওয়ার কারণে বলা যেতে পারে বাগান করাও যেমন মানুষের একটি ধর্ম বাগান না করাও মানুষের একটা ধর্ম। ক্রিকেট খেলাও যেমন মানুষের ধর্ম, না খেলাও মানুষের ধর্ম। ধর্ম পালন করাও যেমন মানুষের একটা ধর্ম, পালন না করাও মানুষের-ই ধর্ম।
তবে ইসলাম ধর্ম ও নাস্তিক্যধর্মের মাঝে পার্থক্য হলো ইসলাম হচ্ছে ঐশীধর্ম। স্রষ্টা কর্তৃক অনুমোদিত। আর নাস্তিক্যধর্ম হচ্ছে দুনিয়াবি ধর্ম। কিছু মানুষ কর্তৃক বেআইনী ধর্ম।
সত্যমনা লেখক- রবিউল ইসলাম।
সত্যমনা ডট কম।
[১] sufibad24 .com

অসাধারণ লিখেছেন।
উত্তরমুছুনজাজাকাল্লাহ খাইরান।
মুছুনসত্যমনার পাশে থাকুন, পড়ুন, মন্তব্য করুন এবং সেয়ার করে দ্বীনি কাজে শরীক থাকুন।
যুক্তিযুক্ত পোস্ট।
উত্তরমুছুনমন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ।
মুছুনসত্যমনার পাশে থাকুন, পড়ুন, মন্তব্য করুন এবং সেয়ার করে দ্বীনি কাজে শরীক থাকুন।
অসম্ভব সুন্দর লেখনী মাশাআল্লাহ
উত্তরমুছুনআপনার মন্তব্য আমাদের উৎসাহ বাড়ায়। জাজাকাল্লাহ খাইরান।
মুছুনআরে ভাই, পরিষ্কার করে বলি। আপনার মূল দাবি ভুল। নাস্তিকতা ধর্ম নয়। আপনি যেভাবে সংজ্ঞা বানিয়ে নিয়েছেন, সেখানে দেখি সব ভাষাগত খেলা আর যুক্তির অপব্যবহার!! আপনি শুরু করেছেন সংস্কৃত √ধৃ ধাতু দিয়ে। ঠিক আছে। ধৃ মানে ধারণ করা। কিন্তু সেখান থেকে সরাসরি লাফ দিয়ে বলে দিলেন যেকোনো বিশেষ চিন্তাধারা ও দর্শনই ধর্ম। এটা সংজ্ঞার জোর করে প্রসারণ করলেন তো। বাংলা ব্যাকরণ ও শব্দার্থবিদ্যার নিয়ম অনুসারে কোনো শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থকে এভাবে ইচ্ছামতো প্রসারিত করা যায় না। যদি আপনার সংজ্ঞা মেনে নিই, তাহলে গণিতও ধর্ম, ফুটবলও ধর্ম, "আজ আমি মাছ খাব না" এই সিদ্ধান্তটাও তো ধর্ম হয়ে যায়। শব্দটা তখন অর্থহীন হয়ে পড়ে। ধর্ম শব্দটি ভারতীয় ঐতিহ্যে ও আধুনিক ব্যবহারে একটি নির্দিষ্ট পরিসর বহন করে: অতিপ্রাকৃত সত্তা, উপাসনা, আচার, নৈতিক কোড ও সম্প্রদায়গত অনুশীলনের ব্যবস্থা। আপনি সেই পরিসর মুছে ফেলে সবকিছুকে ধর্ম বানিয়ে ফেলতে চাইছেন। নাস্তিকতার প্রকৃত অর্থ কী? মুক্তমনায় অভিজিত রায় ২০১০ সালেই এ বিষয়ে পরিষ্কার লিখেছেন। তিনি দেখিয়েছেন নাস্তিক মানে না + আস্তিক। আস্তিক যে বিশ্বাস ধারণ করে, নাস্তিক সেই বিশ্বাস থেকে মুক্ত। আর ইংরেজিতে a + theist = atheist। Gordon stein বলেছেন, atheism হলো theism এর অনুপস্থিতি। Michael Martin বলেছেন তার গ্রিক উৎস অনুসারে এটি negative view। absence of belief in God। Dan Barker বলেছেন, "Basic atheism is not a belief. It is the lack of belief." আপনি দাবী যে, "নাস্তিকরা তো বিশেষ চিন্তাধারা লালন করে, তাই ধর্ম"। এটা ভুল। অনেক অনেক নাস্তিক প্রাকৃতিকতাবাদ বা বিজ্ঞানভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি ধরে রাখে। কিন্তু সেই অতিরিক্ত দর্শনগুলো নাস্তিকতা না কিন্ত। নাস্তিকতা শুধু একটা প্রশ্নের উত্তর: -"দেবতা আছে?"
উত্তরমুছুন- "না" বা "বিশ্বাস করি না"।
একে ধর্ম বললে ভূতে বিশ্বাস না করাকেও "না-ভূত ধর্ম" বলতে হয়, পঙ্খিরাজ ঘোড়ায় বিশ্বাস না করাকেও "না-পঙ্খিরাজ ধর্ম" বলতে হয়। এমন উদ্ভট সংজ্ঞা কেউ গ্রহণ করে না।
আপনার ক্রিকেট-ফুটবল উদাহরণটাও টেকে না। কেউ যদি বলে "আমি কোনো খেলাই খেলি না", তাকে কি আপনি "নন-স্পোর্টস নামক নতুন খেলার খেলোয়াড়" বলবেন? উত্তর হলো: না। ঠিক তেমনি, কেউ যদি বলে "আমি কোনো দেবতায় বিশ্বাস করি না", তাকে নতুন ধর্মের অনুসারী বানিয়ে ফেলা যায় না। টাকমাথা চুলের রঙ না, স্ট্যাম্প সংগ্রহ না করা কোনো শখ না, অ্যালকোহল না খাওয়া কোনো নেশা না। দেবতায় বিশ্বাস না করাও কোনো ধর্ম না। আপনি আরও বলেছেন যে ধর্ম শব্দটি ব্যাপক, তাই বাগান না করাও ধর্ম হতে পারে। এটা আরও বড় ভুল। শব্দ ব্যাপক হলেই তাকে ইচ্ছামতো প্রসারিত করা যায় না। বিজ্ঞানে ও যুক্তিবিদ্যায় সংজ্ঞা স্পষ্ট ও সীমিত রাখা হয় যাতে অর্থহীনতা এড়ানো যায়। আপনার পদ্ধতিতে যেকোনো বিরোধী অবস্থানকেই "ধর্ম" বলে খারিজ করা যায়। শেষে আপনি ইসলামকে ঐশীধর্ম আর নাস্তিকতাকে "বেআইনী ধর্ম" বলেছেন। এটা যুক্তি না। এটা আপনার ধর্মীয় পূর্বধারণা। কোনো প্রমাণ নেই। শুধুই মূল্যায়ন। মোট কথা, আপনার পুরো পোস্টটা সংজ্ঞার অপব্যবহার, ভুল তুলনা এবং পুরনো দাবির পুনরাবৃত্তির উপর দাঁড়িয়ে। মুক্তমনায় অভিজিত রায় বারো বছর আগেই এই ধরনের দাবিকে যুক্তি ও প্রমাণ দিয়ে ভেঙে দিয়েছেন। নাস্তিকতা ধর্ম নয়। এটা ধর্মের অনুপস্থিতি। ভুলকে ভুল বলতেই হয়।